ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০৩:৪২:৫০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০৩:৪২:৫০ অপরাহ্ন
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান ছবি : সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদানব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। এ জন্য আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, প্রশিক্ষিত জনবল, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত নির্দেশিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) অডিটোরিয়ামে ‘স্টেকহোল্ডার্স প্রিপারেটরি ওয়ার্কশপ ফর দ্য আইএইএ ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস রিভিউ মিশন টু বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং ও পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জেনারেশন থ্রি প্লাস প্রযুক্তির আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিভিন্ন ইন্টারলক সুবিধা রয়েছে। তবে শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ জনবল, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও সমন্বিত উদ্যোগও অপরিহার্য।

তিনি বলেন, পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা অত্যন্ত কম হলেও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদানব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আসন্ন ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস রিভিউ (ইপিআরইভি) মিশন প্রসঙ্গে বিজ্ঞান সচিব বলেন, আগামী ৮ থেকে ১৮ নভেম্বর এ মিশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মিশনটিকে কোনো পরীক্ষা কিংবা উত্তীর্ণ-অনুত্তীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং দেশের বিদ্যমান প্রস্তুতি মূল্যায়ন, ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে সম্পন্ন স্ব-মূল্যায়ন মিশনের প্রস্তুতিতে কার্যকর দিকনির্দেশনা দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জরুরি পরিস্থিতিতে কখন ও কীভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে, জাতীয় পর্যায়ে কীভাবে তথ্য ও নির্দেশনা পৌঁছাবে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ (অনসাইট) ও বাইরের (অফসাইট) সাড়াদান কার্যক্রমের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্য নির্দেশিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে লিখিত নির্দেশনা থাকতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবা, রোগী পরিবহন, প্রয়োজনীয় আইসোলেশন, দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যকর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসা দল ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আনোয়ার হোসেন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের পরিবেশগত পরিস্থিতি ও বিকিরণমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরুর আগের ভিত্তিমাত্রার সঙ্গে পরবর্তী সময়ের তথ্য তুলনা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করতে হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিজ্ঞান সচিব বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিকিরণ সম্পর্কে জনসাধারণকে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের ঘাটতি কিংবা ভুল ব্যাখ্যা থেকে মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহজবোধ্য ভাষায় সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রণীত জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদানব্যবস্থা দেশের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্যও কার্যকর মডেল হতে পারে। এ জন্য কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পারমাণবিক শক্তি) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান।

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুল হাসান বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের প্রথম সাড়াদানকারী থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যন্ত প্রত্যেকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের উপস্থিতি বাংলাদেশের সমন্বিত প্রস্তুতি ও সক্ষমতার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো আইএইএর ইপিআরইভি মিশন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে অভিন্ন ধারণা তৈরি, স্ব-মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং আসন্ন মিশনকে সামনে রেখে প্রত্যেক অংশীজনের দায়িত্ব ও করণীয় সুনির্দিষ্ট করা।

সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আসন্ন আইএইএ মিশনে বাংলাদেশের পারমাণবিক নিরাপত্তা ও জরুরি প্রস্তুতিব্যবস্থার সক্ষমতা তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কর্মশালায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসা দল এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কর্মশালায় আইএইএর আসন্ন ইপিআরইভি মিশন উপলক্ষে একটি বুকলেটের মোড়কও উন্মোচন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ কর্মশালার মাধ্যমে মিশনের প্রস্তুতি জোরদার, জরুরি পরিস্থিতিতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের পারমাণবিক নিরাপত্তা ও জরুরি সাড়াদান সক্ষমতা আরও উন্নত হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ